মেইকআপ ছাড়া সুন্দর দেখানোর উপায়

 


কন্সিলার, ফাউন্ডেশন, হাইলাইটার ইত্যাদি ত্বকের খুঁত ঢাকতে পারে ঠিকই কিন্তু নিখুঁত করতে পারেনা।

ত্বক ভালো চাই নিয়মমাফিক জীবনযাত্রা, বিশ্রাম ও ত্বকের সঠিক পরিচর্যা।

‘টাইমস অব ইন্ডিয়া ডটকম’য়ে এক সাক্ষাৎকারে ভারতের স্কিন ক্রাফট ল্যাবরেটরিজ’য়ের প্রধান কুস্তাভ গুহ ত্বক প্রাকৃতিক ভাবে ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে জানান।

দেহের সার্বিক যত্ন নেওয়া ত্বক সুন্দর রাখার প্রথম ধাপ। সুষ্ঠু জীবনযাত্রা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম ও নানা রকমের শারীরিক পরিশ্রম করা ত্বক ভালো রাখে এবং ত্বক সুন্দর থাকলে আর বাড়তি মেইকআপের প্রয়োজন হয় না।

নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা

প্রতিদিন দুবেলা ত্বক ঠিক মতো পরিষ্কার করা এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ত্বক সুস্থ রাখে। দিনে বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন ও রাতে ত্বকের যত্নে সেরাম ব্যবহার করুন।

সপ্তাহে দুবার ত্বক এক্সফলিয়েট করলে মৃত কোষ দূর হয় এবং উজ্জ্বলতা বাড়তে মাস্ক ব্যবহার করা উপকারী।

ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত উপকরণগুলো যেন রাসায়নিক উপাদান সমৃদ্ধ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

অবাঞ্ছিত লোম

মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করুন। এতে ত্বকের আসল রং ফুটে উঠবে। নিয়মিত ফেইশল করে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ানো যায়।

চোখের সৌন্দর্য

চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে এর চারপাশের কালো দাগ ও ফোলাভাব দূর করা প্রয়োজন। এই দাগ কমাতে প্রাকৃতিক উপাদান যেমন- শসা ও গ্রিন টিয়ের মাস্ক ব্যবহার উপকারী। 

হাসির সৌন্দর্য

মুখের সৌন্দর্য বাড়াতে নিয়মিত ঠোঁট স্ক্রাব করা ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। এছাড়াও ঝকঝকে সাদা দাঁত হাসির সৌন্দর্য শতগুণ বাড়িয়ে দেয়।

চুলের সৌন্দর্য

চুল ভালো রাখতে তাপীয় যন্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। অতিরিক্ত তাপীয় যন্ত্রের ব্যবহার চুলকে শুষ্ক ও কোকঁড়া করে ফেলে। আর সহজেই তা ভঙ্গুর হয়ে যায়।

আরামদায়ক পোশাক

যে কোনো অনুষ্ঠান বা উৎসবে সুন্দর পোশকের পাশাপাশি আরামদায়ক পোশাক পরাটা আবশ্যক। পোশাক আরামদায়ক না হলে কোনোভাবেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা সম্ভব না।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

পুষ্টিকর খাবার যেমন- সবজি, ফলমূল খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার ইত্যাদির কারণে ব্রণ দেখা দেয়। ত্বক ভালো রাখতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও প্রচুর পানি পান ত্বক উজ্জ্বল ও সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। 

ঘুম

পর্যাপ্ত ও নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম সুন্দর ত্বকের অন্যতম প্রধান শর্ত। প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য দৈনিক সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম আবশ্যক। রাতে ঘুমের আগে ত্বক ভালো মতো পরিষ্কার করে সিরাম ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি, এতে ত্বক ভালো থাকে।

শরীরচর্চা

নিয়মিত শরীরচর্চা হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে ফলে ত্বকের জটিলতা কমে।

প্রতিদিন সকালে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট শরীরচর্চা বা হাঁটা, সাইকেল চালানো অথবা নাচ সুখী হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে।

মানসিক চাপ হ্রাস

ত্বকের অকালে বলিরেখা পড়ার অন্যতম কারণ হল মানসিক চাপ। শ্বাসের ব্যায়াম, ধ্যান বা যোগ ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞের সহায়তা গ্রহণ

ত্বকে খুব বেশি সমস্যা যেমন- ‘সিস্টিক ব্রণ’, অতিরিক্ত খুশকি ইত্যাদি দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে সংকোচ করবেন না। এই ধরনের সমস্যা দূর হলে সার্বিক আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।


LihatTutupKomentar