অসুস্থ বাংলাদেশি সেই ব্যক্তিকে নিয়ে পাকিস্তানে নামলো সৌদি বিমান, যা জানাল ভারত

 


 ভারত অনুমতি না দেওয়ায় মাঝ-আকাশে অসুস্থ হয়ে পড়া এক বাংলাদেশি যাত্রীকে বহনকারী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি বিমান করাচিতে অবতরণ করতে বাধ্য হয় বলে জানিয়েছিল পাকিস্তানের গণমাধ্যম। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও কম হয়নি। তবে ওই ঘটনার তিনদিন পর উল্টো দাবি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সৌদিগামী ওই বিমানটিকে মুম্বাইয়ে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোম্পানির নীতির কারণে তারা মুম্বাইতে অবতরণ না করে করাচিতে অবতরণ করে।

এর আগে, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা থেকে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ওই বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর মাঝ আকাশে একজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিমানটি পাকিস্তানের করাচি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

সৌদিয়া এয়ারলাইনসের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইটটি মাঝ আকাশে থাকাকালীন ওই যাত্রীর উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি বমি শুরু হয়। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। এ সময় যাত্রীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় পাইলট বিমানটিকে মুম্বাইয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং জরুরি অবতরণের জন্য মুম্বাইয়ের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের (এটিসি) কাছে অনুমতি চান।

এ সময় মুম্বাই এটিসির পক্ষ থেকে অসুস্থ যাত্রীর জাতীয়তা এবং অন্যান্য তথ্য জানতে চাওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে মুম্বাইয়ে অবতরণের অনুমতি না মেলায় বাধ্য হয়ে বিমানের গতিপথ বদলে পাকিস্তানের করাচি শহরের দিকে যান পাইলট।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ইকোনমিক টাইমস বলছে, ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ওই বিমানটিকে মুম্বাইতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অসুস্থ বাংলাদেশিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য চিকিৎসক দলও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বিমানবন্দরে। জরুরি অবতরণের জন্য বিমানটি ফুয়েল ডাম্পিং শুরু করেছিল।

ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সৌদিগামী বিমানটি পরে ‘কোম্পানি নীতি’র কথা উল্লেখ করে মুম্বাইয়ে অবতরণ করবে না বলে জানায় এবং গতিপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে যাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ফ্লাইটটি করাচিতে জরুরি অবতরণ করে। বিমানবন্দরে চিকিৎসার পর ওই রোগী কিছুটা সুস্থ হলে বিমানটি করাচি থেকে আবারও রিয়াদের উদ্দেশে যাত্রা করে।

এদিকে, ইকোনমিক টাইমস ছাড়া ভারতের আর কোনো সংবাদমাধ্যম এ সংক্রান্ত খবর জানায়নি। এছাড়া সৌদিয়া এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। 

LihatTutupKomentar